টেক ইন বাংলা
টেকনোলজি সলিউশন

ওয়ালটন প্রিলুড আর১ : খুবই সস্তায় শিক্ষার্থীদের জন্য নিজেদের ব্র্যান্ড

0

ওয়ালটন প্রিলুড আর১, দেখতে দারুণ, হালকা পাতলা গড়ন, চলনসই হার্ডওয়্যার এবং নাগালের মধ্যে দাম-এমন ল্যাপটপ বাজারে খুব বেশি নেই।

শিক্ষার্থীদের নাগালের মধ্যে সহজেই বহনযোগ্য প্রায় এমন একটি ল্যাপটপ তৈরি করেছে দেশি ব্র্যান্ড ওয়ালটন, যার মডেল ‘প্রিলুড আর১’।

ম্যাকবুক এয়ারের সঙ্গে এটির অনেক অংশের দেখতে বেশ মিল রয়েছে। আবার এতে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাপলের লেক সিরিজের এন৩৪৫০ প্রসেসর।

শুরুতে দেখা যাক, এতে কী আছে 

  • ১৪ ইঞ্চি ডিসপ্লে, ম্যাট ফিনিশ, রেজুলেশন ১৩৬৬ x ৭৬৮ পিক্সেল
  • ইন্টেল এন৩৪৫০ কোয়াডকোর প্রসেসর, ২.২ গিগাহার্জ গতি
  • ইন্টেল এইচডি ৫০০ জিপিউ
  • ৪ গিগাবাইট র‍্যাম
  • ১ টেরাবাইট স্টোরেজ
  • দুটি ইউএসবি পোর্ট, একটি মিনি এইচডিএমআই পোর্ট, হেডফোন জ্যাক, মাইক্রোএসডি কার্ড রিডার
  • ওয়েবক্যাম
  • চিকলেট কিবোর্ড, টাচপ্যাড
  • প্রায় ৭ ঘণ্টা ব্যাটারি লাইফ
  • পেছনে জ্বলন্ত ওয়ালটন লোগো

ডিজাইন

ওয়ালটন প্রিলুড আর১-এর ডিজাইনে ম্যাকবুক এয়ারের সঙ্গে বেশ মিল আছে। ডিসপ্লের পেছনের অংশ ও নিচের অংশ তৈরি করা হয়েছে অ্যালুমিনিয়ামে। কিবোর্ড ও ফ্রেমের অংশ প্লাস্টিকের।

ডিসপ্লের চারপাশের বেজেল বেশ চিকন। ডিসপ্লের ওপরে আছে ওয়েবক্যাম।

কিবোর্ডের আকার বড়সড়, যা টাইপ করার জন্য আরামদায়ক। বিশেষ করে প্রতিটি সুইচের গভীরতা টাইপ করার জন্য খুবই আরামের। কিবোর্ডের মধ্যেই বাংলা লেআউট প্রিন্ট করা আছে।

চিকলেট স্টাইল কিবোর্ডটিও দেখতে এবং ব্যবহারে ম্যাকবুক এয়ারের মতো। টাচপ্যাড প্লাস্টিকের, খুব একটা বড় না হলেও ব্যবহারযোগ্য ওয়ালটন প্রিলুড আর১

ডানে ও বামে একটি করে ইউএসবি পোর্ট আছে। চার্জিং পোর্ট দেয়া হয়েছে বাম পাশে আর হেডফোন জ্যাক ডানে।

অন্যদিকে মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট ডানে এবং মিনি এইচডিএমআই পোর্ট আছে বামে।

ডিসপ্লের পেছনে থাকা ওয়ালটন লোগো ল্যপটপ ব্যবহারের সময় জ্বলবে। ম্যাকের সঙ্গে মিল এখানেও স্পষ্ট।

আর স্পিকার দেওয়া হয়েছে ল্যাপটপের নিচে, দু’পাশে দুটি।

ল্যাপটপটি বেশ পাতলা। আজকের আল্ট্রাবুকের চেয়ে পাতলা না হলেও বাজারের সকল মাঝারি দামের ল্যাপটপের চেয়ে এটি হালকা ও পাতলা, তৈরির মানও প্লাস্টিক বডি ল্যাপটপের চেয়ে ভালো।

ব্যাগে সহজেই এটি স্থান করে নিতে পারবে।

পারফরমেন্স

ইন্টেল সেলেরন প্রসেসরগুলো তৈরি করা হয় সর্বোচ্চ ব্যাটারি বাঁচিয়ে খরচ কমিয়ে ব্যবহারযোগ্য পারফরমেন্স দেয়ার জন্য, এটিও ব্যতিক্রম নয়।

অ্যাপোলো লেক সিরিজের এন৩৪৫০ প্রসেসরটিতে আছে ৪টি কোর, যার সর্বোচ্চ গতি ২ দশমিক ২ গিগাহার্জ। গিকবেঞ্চ অনুযায়ী সিঙ্গেলকোর পারফরমেন্স ১৫০০ পয়েন্ট, মাল্টিকোর পারফরমেন্স প্রায় ৩৯০০ পয়েন্ট।

ওয়েব ব্রাউজিং, অফিসের কাজ, ডাউনলোড, এমনকি ফোরকে ভিডিও দেখা পর্যন্ত সামলে নিতে পারবে এটি। তবে একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে চাইলে কিছুটা পিছিয়ে পড়বে।

ভারী কাজ, যেমন ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর বা প্রিমিয়ার প্রো চালাতে চাইলে ল্যাপটপটি না নেয়াই ভালো। যেহেতু স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে এটি তৈরি করা হয়েছে, তাই পারফরমেন্সের চেয়ে ব্যাটারিলাইফ এবং তাপের দিকে বিশেষ নজর দেয়া স্বাভাবিক।

সেলেরন প্রসেসর ব্যবহার করায় ল্যাপটপটি খুব একটা গরম হবে না। টানা ব্যবহারেও অতিরিক্ত ফ্যানের শব্দ বা তাপ পাওয়া যায়নি।

প্রসেসরের তুলনায় ৪ গিগাবাইট র‍্যাম যথেষ্ট। ফায়ারফক্স ও অপেরা ব্রাউজারে একসঙ্গে আটটি  ট্যাবে ব্রাউজ করার সময়ও র‍্যামের ঘাটতি দেখা যায়নি।

গেইমিং

ইন্টেল এইচডি ৫০০ ও সেলেরন প্রসেসর একেবারেই গেইমিংয়ের জন্য নয়। তবে পুরাতন কিছু গেইম, যেমন এল্ডার স্ক্রোলস অবলিভিয়ন, এনএফএস মোস্ট ওয়ান্টেড (২০০৫), জিটিএ ভাইস সিটি এতে সহজেই চলবে।

সময় কাটানোর জন্য হালকা কিছু গেইম খেলা যাবে অনায়াসে।

ব্যাটারি লাইফ

টানা ব্রাউজিং, ভিডিও দেখা ও ডাউলোডের পরও ৫০ শতাংশ স্ক্রিন ব্রাইটনেসে সাত ঘণ্টা ব্যাটারিলাইফ পাওয়া গেছে।

মূল্য অনুযায়ী ব্যাটারি লাইফ চমকপ্রদ। পুরো চার্জ হতে সময় লাগবে আড়াই ঘণ্টা।

ডিসপ্লে

ম্যাট ডিসপ্লে সবসময়ই কাজ করার জন্য খুবই কাজের। পেছন থেকে সরাসরি সূর্যের আলো পড়লেও ডিসপ্লেতে গ্লেয়ার হবে না। কাত করে দেখলেও ডিসপ্লের রঙ তেমন নষ্ট হবে না, যদিও এটি উচ্চমানের মনিটরের সমকক্ষ নয়।

মূল্য অনুযায়ী ডিসপ্লের শার্পনেস ও কন্ট্রাস্ট যথেষ্ট ভালো হলেও কালার গ্যামুট ও কালার ব্যালেন্স আরও ভালো হতে পারত। অবশ্য ল্যাপটপটির মূল্য বিচার করলে এর চেয়ে ভালো ডিসপ্লে আশা করা সম্ভব নয়।

সাউন্ড

ল্যাপটপটির স্পিকার দুটি থাকলেও, বিছানায় সেটি ব্যবহার করলে স্পিকারগুলো ঢাকা পড়ে যায় এবং সাউন্ড পাওয়া যাবে না। টেবিলে ব্যবহার করলে অবশ্য চলনসই।

হেডফোনে সাউন্ডের মান অসাধারণ নয়, যতটুকু পাওয়া যায় তাকে ফেলনাও বলা যাবে না।

পরিশেষ

বাজেট যখন ২০ হাজারের কম, তখন নেটবুকের বেশি কিছু এতদিন আশাই করাই যেত না। সে অনুযায়ী প্রিলুড আর১ খুবই স্টাইলিশ, ব্যাটারি লাইফ তারিফ করার মতো এবং পারফরমেন্স দৈনন্দিন কাজের জন্য যথেষ্ট।

এর সঙ্গে আছে ক্রেডিট কার্ড ছাড়াই ওয়ালটনের কিস্তি সুবিধা।

মূল্য

১৮ হাজার ৯৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে এটি। কেউ চাইলে কিস্তি সুবিধাও নিতে পারবেন।

এক নজরে ভালো

  • ডিজাইন
  • ব্যাটারি লাইফ
  • মূল্য অনুযায়ী পারফরমেন্স
  • হালকা পাতলা

এক নজরে খারাপ

  • ডিসপ্লের কালার অ্যাকুরেসি
  • স্পিকারের সাউন্ড

Leave A Reply

Your email address will not be published.